

স্টাফ রিপোর্টার, কুড়িগ্রাম:
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার দক্ষিণ মোগলবাসা গ্রামে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বাবা-মা ও চাচির হাতে খুন হয়েছে নবম শ্রেণির ছাত্রী জান্নাতী আক্তার (১৫)। পরিকল্পনা ছিল, তাকে মেরে ২৭ জন প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে জমি দখল নেবে পরিবারটি।
ঘটনাটি ঘটে শনিবার (১০ মে) রাত ২টার দিকে। জান্নাতীকে মধ্যরাতে ঘুম থেকে ডেকে তোলেন তার বাবা জাহিদুল ইসলাম (৪৫) ও মা মোর্শেদা বেগম (৪০)। সাথে ছিলেন চাচি শাহিনা বেগম (৪২)।
তাকে নিয়ে যাওয়া হয় গ্রামের পাশের একটি ভুট্টা খেতে। সেখানে মেয়েটিকে রড ও ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
পরদিন সকালে স্থানীয় কৃষক মোজাহার আলী ভুট্টা খেতে মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে জান্নাতীর বাবা-মা কান্নাকাটির নাটক করে এবং দক্ষিণ মোগলবাসা গ্রামের ২৭ জন প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে কুড়িগ্রাম সদর থানায় মামলা করেন।
তবে পুলিশি তদন্তে রহস্যজনক তথ্য উঠে আসে। ময়নাতদন্তে অসংগতি থাকায় পুলিশ বাবা-মা ও চাচিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদে চাচি প্রথমে এবং পরে বাবা-মা হত্যার দায় স্বীকার করেন।
তারা জানান, প্রতিবেশীদের সঙ্গে তাদের ৩২ বিঘা জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। সেই বিরোধে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে নিজের মেয়েকেই বলি দেন তারা।
কুড়িগ্রাম সদর থানার ওসি মো. হাবিবুল্লাহ জানান, তিনজনের স্বীকারোক্তি গ্রহণ করে হত্যা মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে।
গ্রামের মানুষ ও স্কুলের শিক্ষক-সহপাঠীরা জান্নাতীর মৃত্যুতে শোকাহত। তারা জানান, জান্নাতী ভদ্র, মেধাবী ও স্বপ্নবিলাসী মেয়ে ছিল। আগামী বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল তার।
প্রধান কার্যালয় : ৪০১ উত্তর কাজীপাড়া, মিরপুর ঢাকা-১২১৬ ( ১ম তলা) শাখা কার্যালয় : সাত রং টঙ্গী গাজীপুর। মো:০১৯১১৬৯১৫২৯
All Rights Reserved by Dainik Batayan Barta