
স্পোর্টস ডেস্ক:
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে যাত্রা শুরু করেছিল ব্রাজিল। তবে সেই স্বপ্ন থেমে গেল শেষ ষোলোতেই। রোববার (৫ জুলাই) নিউ ইয়র্ক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত নকআউট পর্বের ম্যাচে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে ব্রাজিলের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি হতাশা প্রকাশ করলেও ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী থাকার বার্তা দেন। তিনি বলেন, এই পরাজয় ব্রাজিল ফুটবলের জন্য কোনো সমাপ্তি নয়; বরং এটি একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা। তার মতে, বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের কষ্ট যতই বড় হোক না কেন, এই ব্যর্থতা থেকেই দলকে নতুনভাবে গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
আনচেলত্তি বলেন,
“এটা স্পষ্ট যে আমরা সবাই গভীরভাবে হতাশ। বিশ্বকাপে আমাদের যাত্রা এখানেই শেষ হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই কষ্ট হচ্ছে। দলটি হয়তো অসাধারণ কোনো বিশ্বকাপ খেলেনি, কিন্তু আমরা ভালো ফুটবল খেলেছি এবং প্রতিটি ম্যাচেই লড়াই করেছি। আজকের ম্যাচেও আমার বিশ্বাস, আমরা জয়ের যোগ্য ছিলাম। কিন্তু ফুটবলে সব সময় ভালো খেললেই জয় আসে না।”
তিনি আরও বলেন,
“ফুটবলে এমন মুহূর্ত আসে, যখন একটি পরাজয়ই ভবিষ্যতের নতুন পথ তৈরি করে দেয়। আমি এই হারকে শেষ হিসেবে দেখছি না। বরং এটি আমাদের জন্য নতুন একটি চক্রের সূচনা। এখান থেকেই আমরা নতুন লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাব এবং আরও শক্তিশালী ব্রাজিল দল গড়ে তুলব।”
বিশ্বকাপ থেকে প্রত্যাশার আগেই বিদায় নেওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই সমর্থকদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। তবে অভিজ্ঞ এই ইতালিয়ান কোচ মনে করেন, আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করে সামনে এগিয়ে যাওয়াই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। তিনি বলেন, একটি বড় টুর্নামেন্টে ব্যর্থতা কখনোই পুরো প্রকল্পকে ব্যর্থ প্রমাণ করে না।
আনচেলত্তি বলেন,
“আমরা জাতীয় দলের জন্য কাজ চালিয়ে যাব। আমাদের লক্ষ্য থাকবে দলকে আরও উন্নত করা, নতুন নতুন ধারণা নিয়ে কাজ করা এবং আগামী চ্যালেঞ্জগুলোর জন্য নিজেদের প্রস্তুত করা। এ বছরও আমরা সেই লক্ষ্য নিয়েই কাজ করেছি এবং আমি মনে করি, আমাদের প্রচেষ্টা ভালো ছিল। তবে ফুটবল এমন একটি খেলা, যেখানে কখনো কখনো পরাজয়ের বেদনাও মেনে নিতে হয়।”
নিজের দীর্ঘ কোচিং ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন আনচেলত্তি। তিনি বলেন,
“আমি বহুবার জয় দেখেছি, আবার কঠিন পরাজয়ও দেখেছি। তাই জানি, এমন সময় কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দিতে হয়। আমরা এই পরাজয় থেকে শিক্ষা নেব, নতুন উদ্দীপনায় কাজ শুরু করব এবং খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স গভীরভাবে মূল্যায়ন করব। কোথায় উন্নতির সুযোগ রয়েছে, সেটি বিশ্লেষণ করে সামনে এগিয়ে যাওয়াই এখন আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”
ব্রাজিলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কেও ইঙ্গিত দেন এই অভিজ্ঞ কোচ। তিনি জানান, আগামী বিশ্বকাপকে সামনে রেখে দল পুনর্গঠন, নতুন প্রতিভাবান ফুটবলারদের সুযোগ দেওয়া এবং বর্তমান স্কোয়াডকে আরও পরিণত করে তোলার দিকেই গুরুত্ব দেওয়া হবে। তার বিশ্বাস, বর্তমান ব্যর্থতা ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী ব্রাজিল দল গঠনের ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
বিশ্বকাপে শিরোপার স্বপ্ন ভেঙে গেলেও আনচেলত্তির কথায় স্পষ্ট, তিনি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা থেকে সরে আসছেন না। বরং এই ব্যর্থতাকে শিক্ষা হিসেবে নিয়ে নতুন উদ্যমে ব্রাজিলকে আবারও বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষে ফিরিয়ে আনাই তার লক্ষ্য।
এদিকে, নরওয়ের কাছে এই হারের মাধ্যমে ২০২৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের অভিযান শেষ হলেও ইউরোপের দলটি প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে ইতিহাস গড়েছে। অন্যদিকে, ব্রাজিলকে এখন অপেক্ষা করতে হবে নতুন একটি আন্তর্জাতিক চক্রের, যেখানে আনচেলত্তির নেতৃত্বেই শুরু হবে সেলেসাওদের নতুন পথচলা।
