
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ৩ মে:
ঐতিহ্যবাহী তিতাস নদী আজ দখল ও দূষণের করাল গ্রাসে ধুঁকছে। শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিদিন শত শত টন ময়লা-আবর্জনা সরাসরি নদীতে গিয়ে পড়ছে। ফলে নদীর পানিতে সৃষ্টি হয়েছে বিষাক্ততা, বাড়ছে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ঝুঁকি।
শহরের আনন্দ বাজার, বাঁশ বাজার, মেড্ডা ও কারখানা ঘাট এলাকা থেকে প্রতিনিয়ত পচা ময়লা, প্লাস্টিক, বর্জ্য পানি ও মাংসের আবর্জনা ফেলা হচ্ছে তিতাসে। এসব এলাকায় কোনো পরিশোধনাগার না থাকায় ড্রেন ও নালার সব কিছু গিয়ে মিশছে নদীতে।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “নদীর পাশ দিয়ে হাঁটা যায় না, প্রচণ্ড দুর্গন্ধে বাচ্চাদেরও অসুস্থ হয়ে পড়ছে। কতবার বলেছি পৌরসভায়, কিন্তু কেউ শোনে না।”
শুধু দূষণই নয়, অব্যবস্থাপনার কারণে বর্ষায় শহরের অনেক এলাকায় সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। পরিচ্ছন্নতা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে প্রতিদিন গড়ে ৯০-১০০ টন বর্জ্য উৎপন্ন হয়, যার বড় অংশ নদী ও নালায় ফেলা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অবিলম্বে নদীতে ময়লা ফেলা বন্ধ না হলে পরিবেশগত বিপর্যয় অনিবার্য হয়ে উঠবে। শহরের জন্য একটি আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা, নিয়মিত খাল-নালা পরিষ্কার এবং কঠোর আইন প্রয়োগই পারে তিতাসকে আবার স্বাভাবিক প্রবাহে ফিরিয়ে আনতে।
তিতাস বাঁচাও, শহর বাঁচাও—এটাই এখন সময়ের দাবি।
