জয়দেব আচার্য্য নিকলী (কিশোরগঞ্জ)
অনিয়মে জড়িত বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি বাতিলের দাবিতে নিকলীতে শিমুল কমপ্লেক্সের সামনেই মানব বন্ধন করেছেন ত্যাগীও যোগ্য নেতাকর্মীরা।
নিকলী-বাজিতপুর দুই গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা মিলে একটি নির্বাচনী আসন। যাকে কিশোরগঞ্জ-৫ আসন বলা হয়। এ আসনের অধীনে মোট ভোটার প্রায় সোয়া ৩ লক্ষ। এরি মধ্যে নিকলীতে প্রায় ১লক্ষ ২৫ হাজার। দেড় যুগের কাছাকাছি সময় ব্যাপী অন্যান্য উপজেলার তুলনায় অধিক নির্যাতিত ও সুবিধাবঞ্চিত ছিলেন আওয়ামী সরকারের আমলে সেখানকার বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। যদিও আসনটি সুদীর্ঘ সময় ব্যাপী বিএনপির ঘাঁটি ছিলো।
পরবর্তীতে আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের কৌশলে আর বিএনপির দলীয় কোন্দলে কোনঠাসার শিকার হয়।
এতদসত্ত্বেও এ দুটি আসনকে ঘিরে নেতা নির্বাচন নিয়ে এখনো কাটেনি ধুম্রজাল। যা স্থানীয় বিএনপির জন্যে দুঃখজনক। দুটি উপজেলায় দীর্ঘদিন যাবৎ আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে নেতৃত্ব পরিচালনার বিষয়েও সমালোচনা পিছু ছাড়েনি স্থানীয় বিএনপির সভাপতিদের ঘিরে এবার নিকলীর তিন বারের সাবেক সংসদ সদস্যের ছেলে ও বর্তমান সভাপতি এডভোকেট বদরুল মোমেন মিঠুকে ঘিরে কমিটি বানিজ্য থেকে শুরু করে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ।
২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারিতে নিকলীতে উৎসব মুখর পরিবেশের মধ্যে দিয়ে দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনের মাধ্যমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়। তখনকার নেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অনিয়মের অভিযোগ ছিলো স্থানীয় পর্যায় থেকে শুরু করে জেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধেও। কেন্দ্রীয় পর্যায়েও অনিয়মের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দায়েরের তথ্য মিলে।
এই অনিয়মের ধারিবাহিকতার মধ্যে দিয়েই গত ২৬ আগষ্ট অনুমোদন মিলেছে নিকলীর পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের। যা চলতি ৫ সেপ্টেম্বর বিকালে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয় উপজেলার সভাপতি বদরুল মোমেন মিঠু ও সেক্রেটারির আতিকুল ইসলাম তালুকদার হেলিমের নেতৃত্বে।
নিকলী উপজেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটিকে কেন্দ্র করেও স্থানীয় কিছু অসাধু নেতাকর্মী থেকে শুরু করে জেলা পর্যায়ের কিছু নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধেও অর্থনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে সীমাহীন অভিযোগ উঠেছে বদরুল মোমেন মিঠুর বিরুদ্ধে। মিঠুর হাত দিয়েই অর্থনৈতিক লেনদেন হয়েছে বলেও সুবিধাবঞ্চিত নেতাকর্মীরা স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন ৬ সেপ্টেম্বর বিক্ষোভ মিছিল ও সংবাদ সম্মেলনের মধ্যে দিয়ে। সেই ধারাবাহিকতায় ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ মঙ্গলবার দুপুর ১২ টার দিকেও পুনরায় মানববন্ধন করেন অবৈধ কমিটি বাতিলের দাবিতে।
মানববন্ধনে নিকলীর যুবদল নেতা ও জুলাই আহত যোদ্ধা মোজাম্মেল হক স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন শতকরা প্রায় ৯০ জন লোক যোগ্যদের আসন থেকে বঞ্চিত হয়েছেন শুধু অনৈতিক লেনদেনের কারণে। টাকার বিনিময়ে ফ্যাসিস্টরাও গুরুত্বপূর্ণ পদে স্থান করে নিয়েছে। এছাড়াও তিনি উল্লেখ করেন রাজাকারের সন্তান নিকলী বিএনপির সভাপতি মিঠুর হাতে এখানকার বিএনপি অনিরাপদ।
বিএনপি নেতা ও জারইতলা ইউনিয়নের প্যানাল চেয়ারম্যান ইসহাক রানা তার বক্তব্যে স্পষ্ট উল্লেখ করেন, টাকার বিনিময়ে থানা ছাত্রলীগের সদস্য জারইতলার শাহ মোহাম্মদ জাকির হোসেনের মতো অনেককেই বিএনপির কমিটিতে রাখা হয়েছে।
মানববন্ধনে সভাপতির দায়িত্ব পালনকারী সাবেক ছাত্রদল ও বিএনপি নেতা কামরুল হাসান উল্লেখ করেন, কোটি টাকার বিনিময়ে হাইব্রিডদের দিয়ে কমিটি করা হয়েছে।
এ সময়ে এ কমিটি বাতিলেরও দাবি জানান তিনি।
সাবেক বিএনপির অন্যতম যুগ্ম আহ্বায়ক ও মানববন্ধনের প্রধান অতিথি এডভোকেট জিল্লুর রহমান মানববন্ধনে উল্লেখ করেন, তাকে যোগ্যতার আসন থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। অর্থনৈতিক লেনদেনে জড়িয়ে থাকা এই অনিয়মের কমিটিও বাতিলের দাবি জানান।
মানববন্ধনের সঞ্চালনায় দায়িত্বে থাকা সিয়াম হাসান অক্ষয়সহ উপজেলার অধীনস্থ ৭টি ইউনিয়নের সুবিধাবঞ্চিত অসংখ্য নেতাকর্মী সেখানে উপস্থিত থেকে কমিটির অনিয়মের বিষয়ে তারা নানান ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অনেককেই এ সময়ে ক্ষোভের ভাষায় বলতে শোনা গেছে, জেল-জুলুম এবং নির্যাতনের শিকার হলেও উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব রনি আহমদ এবং বিএনপির নেতা আলম ও সিংপুরের আসলামসহ সাবেক থানা ছাত্রদলের সভাপতি খাইরুল ইসলামের মতো ত্যাগীরাও এ কমিটিতে স্থান পাননি। এমনকি দলের গঠনতন্ত্রের নিয়ম অনুযায়ী সিনিয়র সহ-সভাপতি পাওয়ার নিয়ম থাকলেও জনপ্রিয় নেতা শফিকুল আলম রাজনকে সদস্য পদে রাখা হয়েছে।
সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক শফিকুল আলম রাজন মুঠোফোনে জানান, তাকে সুকৌশলে সভাপতির পদ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। অনিয়মের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় কমিটি বরাবরেও তিনি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বলেও উল্লেখ করেন। এবার তাকে রাজনীতিতে কোণঠাসা করে রাখতেই মূলত সদস্য পদে রাখা হয়েছে।
যে পরিমাণ ফ্যাসিস্টদের নিকলীর কমিটিতে স্থান দেয়া হয়েছে স্থানীয় আ’লীগকে পুনর্বাসনের জন্যে ওরাই যথেষ্ট। এমন অভিযোগ এবং ক্ষোভের ভাষাও ছিলো উপস্থিত নেতাকর্মীদের মুখে মুখে।বক্তৃতাকালে নেতারা আরও জানান তাপস সাহা অপু র মাধ্যমে টাকার লেনদেন হয়েছে, তাপস সাহা অপু বর্তমান উপজেলা বিএনপি নতুন কমিটির সিনিয়র সাধারণ সম্পাদক যাহা পাওয়ার কথা ছিলো কাউন্সিল নির্বাচনে দ্বিতীয়স্থান পাওয়া এডভোকেট জিল্লুর রহমানের,তাপস সাহা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের ক্যাশিয়ার বলে সেই পদটি ভাগিয়ে নিয়েছেন। এই ব্যাপারে নিকলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি এডভোকেট হাজী বদরুল মোমেন মিঠুর মুঠোফোনে কথা বললে তিনি জানান তার ব্যাপাারে আনিত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বানোয়াট,মানহানিকর,ও উদ্দেশ্যপ্রনোদিত বলেন জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে এধরণের উশৃংখল ও অসাংগঠনিক কার্যকলাপে জাতীয়তাবাদী চেতনা বিরোধীরাই পক্ষান্তরে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করবে,সকলকে ঐক্যবদ্ধ থেকে আগামী ২০ তারিখের জেলার সম্মেলন কে সফল করার আহবান জানিয়েছেন।
কোনো ধরণের অভিযোগ এবং নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও বদরুল মোমেন মিঠুর বাসা বাড়ির সম্মুখের অংশে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে তমতমে অবস্থা বিরাজ করার কারণে আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকারা ছিলেন নিরাপত্তার লক্ষ্যে জুড়ালো ভূমিকায়।


1 Comment
https://shorturl.fm/OGYge