
ফারুক হোসেন:
হয়েছে। গতকাল সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে টঙ্গীর গোপালপুর বাজার এলাকায় নিহত নুর ইসলামের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় এলাকাবাসীর উদ্যোগে এ প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে নিহত নুর ইসলামের দুই কন্যা চাঁদনি ও তন্নি তাদের বাবার হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ফাঁসির দাবি জানান। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তারা বলেন, যারা তাদের বাবাকে হত্যা করেছে, তাদের যেন দ্রুত আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হয়। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারাও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। বক্তারা বলেন, একজন মানুষকে এভাবে হত্যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। হত্যার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ১ সেপ্টেম্বর রাতে টঙ্গীর গোপালপুর এলাকা থেকে মাদকসংক্রান্ত বিরোধের জেরে নুরুল ইসলামকে তুলে নিয়ে যায় প্রতিপক্ষের লোকজন। পরে তাকে টঙ্গী নদীবন্দরসংলগ্ন ইটখোলা এলাকায় নিয়ে দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে সহযোগীরা সিএনজি অটোরিকশাযোগে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে নুর ইসলামের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। এ ঘটনায় নিহতের বোন নুরজাহান আক্তার বাদী হয়ে ২ সেপ্টেম্বর টঙ্গী পূর্ব থানায় হত্যা মামলা করেন।
মামলার পরপরই আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু করে পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় টঙ্গীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামি নুর ইসলাম বাবু ওরফে খান বাবুসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন টঙ্গীর পাগাড় এলাকার মৃত আলম খানের ছেলে নুর ইসলাম বাবু ওরফে খান বাবু (৩৮), একই এলাকার নুরুল ইসলাম খানের ছেলে তরিকুল ইসলাম জিহাদ (২৩), ময়মনসিংহের তারাকান্দা থানার বালিয়া গ্রামের মুক্তার হোসেনের ছেলে মামুন (২৬) এবং রংপুরের কাউনিয়া থানার হারাগাছ গ্রামের মৃত লাবলু মিয়ার ছেলে আরাফাত রহমান জনি (২৮)। বাকি ৫ আসামীদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানান এবং সকল আসামীদের ফাঁসির দাবি জানানো হয়।
