
খলিলুর রহমান (রনি)
টঙ্গীর খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের উদ্যোগে রোববার আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপিত হলো ‘স্টার সান ডে’। বেথলেহেমের তারার আলোয় যীশুর জন্মবার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে এই দিনটি প্রতিবছর বড়দিনের প্রস্তুতি হিসেবে পালন করা হয়।
সকাল ৯টায় শুরু হয় প্রার্থনা, আর সেইসাথে জমে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল। গির্জার চারপাশ সাজানো ছিল রঙিন আলোকসজ্জা ও তারকার প্রতীকে। ছোট্ট শিশুদের সরল অভিনয় আর কিশোরদের কণ্ঠে যীশুর জন্মগাঁথা যেন এক অনন্য পরিবেশ তৈরি করে। ধর্মীয় আলোচনা ও নাট্যাংশে উঠে আসে মানবতার বার্তা—ভালোবাসা, শান্তি আর ক্ষমার শিক্ষা।
প্রধান অতিথি মি. আগস্টিন পিউরিফিকেশন (কালবের চেয়ারম্যান ও খ্রিস্টান মেট্রোপলিটন কো-অপারেটিভ সোসাইটির সাবেক চেয়ারম্যান) বলেন, “এমন আয়োজনে নতুন প্রজন্ম তাদের শিকড় ও মূল্যবোধের সঙ্গে পরিচিত হয়।”
ফাদার শীতল ডি কস্তার নেতৃত্বে প্রার্থনায় ছিল এক গভীর আবেগ। তিনি বলেন, “বেথলেহেমের তারা আমাদের হৃদয়ের ভেতরের আলো জ্বালায়—সেই আলো নিয়েই আমাদের পথ চলা হোক, যেন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে শান্তি ও ভালোবাসা।”
স্থানীয় গির্জার কোরাস দলের পরিবেশনায় ধর্মীয় সঙ্গীত ছিল অত্যন্ত হৃদয়গ্রাহী। সন্ধ্যায় আলোকসজ্জায় নানান রকম তারকা প্রতীকের ঝলকানি যেন এক স্বপ্নময় অনুভব তৈরি করে। ছোটরা মোমবাতি হাতে দাঁড়িয়ে যখন প্রার্থনায় অংশ নেয়, তখন সবার চোখে মুখে ছিল এক অদ্ভুত প্রশান্তি।
অনুষ্ঠান শেষে শুভেচ্ছা ও কোলাকুলির মাধ্যমে শেষ হয় আয়োজন। আয়োজকরা জানান, ‘স্টার সান ডে’ এখন শুধু একটি ধর্মীয় আচার নয়—এটি এখন পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি আর সমাজকে একসাথে পাওয়ার উৎসব।
