
বিশেষ প্রতিনিধি
মাগুরার আলোচিত শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় একমাত্র আসামি হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বাকি তিন আসামি—রুবেল, আবু সাঈদ ও মান্নানকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১৭ মে) সকালে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসান এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২১ সালের ১২ মার্চ মাগুরা সদর উপজেলার একটি গ্রামে পাঁচ বছর বয়সী শিশু আছিয়া নিখোঁজ হয়। দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির পর পরদিন ১৩ মার্চ বাড়ির পাশের একটি পরিত্যক্ত জমিতে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তদন্তে উঠে আসে, তাকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছিল।
পরিবারের পক্ষ থেকে সেদিনই মাগুরা সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে তদন্তে হিটু শেখসহ চারজনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দেওয়া হয়। মামলাটি মাগুরা জেলায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
বিচারক এম জাহিদ হাসান রায়ে বলেন, “আসামি হিটু শেখের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এই জঘন্য অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ডই উপযুক্ত শাস্তি।”
তবে অন্যান্য তিন আসামির বিরুদ্ধে সরাসরি প্রমাণ না থাকায় এবং সাক্ষ্য-প্রমাণের ঘাটতির কারণে তাদের খালাস দেওয়া হয় বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।
রায়ের পর আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত নিহত আছিয়ার পরিবারের সদস্যরা রায় আংশিকভাবে মেনে নেওয়ার কথা জানালেও বাকি আসামিদের খালাসে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। শিশুটির মা বলেন,
“আমার মেয়েকে যারা নৃশংসভাবে হত্যা করল, তারা সবাই শাস্তি পাক—এটাই ছিল আমাদের চাওয়া। আমরা উচ্চ আদালতে যাবো।”
অন্যদিকে আসামি পক্ষের আইনজীবীরা বলেন, “তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস পাওয়া ন্যায়বিচারেরই বহিঃপ্রকাশ।”
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মাগুরা সদর থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম জানান “হিটু শেখকে আমরা গ্রেপ্তারের পর বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণ করি। সেই জবানবন্দিসহ বিভিন্ন সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগ প্রমাণিত হয়।”
রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি বলেন “আমরা রায়ে সন্তুষ্ট, তবে খালাসপ্রাপ্ত আসামিদের বিষয়ে আপিল করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।”
শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণ প্রতিরোধে এমন রায় সমাজে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে মনে করেন অনেকেই। তবে খালাসপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্ত ও সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপনের ঘাটতির বিষয়টিও ভাবনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
