
মিরপুর বিআরটিএ কার্যালয়ে দালালদের আনাগোনা বেড়েছে। নতুন গাড়ি আসলেই তাদের পিছু পিছু ছুটে যায় দালালরা। কাগজপত্র দেখলেই এগিয়ে আসে তারা, দ্রুত কাজ করিয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায় করে। উদাহরণস্বরূপ, একজন দালাল জানান, এক মাসের মধ্যে ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে চাইলে ১০-১২ হাজার টাকা লাগবে, আর ১৫ দিনের মধ্যে করতে চাইলে ২০-৩০ হাজার টাকা দিতে হবে। এছাড়া, ফিটনেস নবায়ন ও মালিকানা হস্তান্তরের জন্যও অতিরিক্ত টাকা দাবি করা হচ্ছে।
বিআরটিএ কর্মকর্তারা দালালদের বিষয়ে অবগত থাকা সত্ত্বেও কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। গ্রাহকদের অভিযোগের পরেও তারা দায় এড়িয়ে যাচ্ছেন। ড্রাইভিং লাইসেন্সের স্মার্টকার্ড নিতে আসা এক ব্যক্তি জানান, বারবার আসার পরও লাইসেন্স পাননি, অথচ দালালরা দ্রুত সেবা দেওয়ার প্রলোভন দেখাচ্ছে। এদিকে, বিআরটিএর রোড সেফটি উইংয়ের পরিচালকও দালালদের বিষয়ে অবগত নন বলে জানিয়েছেন।
দ্বায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের অবহেলা ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের অভাবে দালালদের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমনকি, কিছু পুলিশ সদস্যও দালালদের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় সাধারণ মানুষ আরও বেশি হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে হলে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। দ্রুত সেবা প্রদানের নামে অতিরিক্ত টাকা আদায় বন্ধ করতে হবে। দালালদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। এছাড়া, বিআরটিএ কার্যালয়ে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অভিযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা তাদের সমস্যাগুলি সহজে জানাতে পারেন।
শুধু প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়, জনগণের সচেতনতা ও সহযোগিতাও দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মিরপুর বিআরটিএ কার্যালয়কে দালালমুক্ত ও সেবা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।
